৫ আগস্টের পরবর্তী ১৭ মাসে দেশে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতার বড় অংশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির গবেষণায় বলা হয়েছে, এ সময় সংঘটিত সহিংস ঘটনার ৯১ দশমিক ৭ শতাংশে বিএনপির সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। অন্যদিকে ২০ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনায় আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় অন্তত ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।
সহিংসতার ঘটনায় দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০০ ঘটনার মধ্যে ৫৫০টিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। একই সময়ে ১২৪টি ঘটনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সদস্যদের জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ৪৬টি সহিংস ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।
টিআইবি জানায়, সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, এলাকা ও কার্যক্রমের দখল নিয়ে প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, সিলেট অঞ্চলের পাথর কোয়ারি ও নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন, পাশাপাশি ব্রিজ, বাজার, ঘাট, বালুমহাল ও জলাশয়ের ইজারা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই অকার্যকর ছিল। সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত নিজ দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে দলগুলো ব্যর্থ হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
টিআইবি মনে করে, রাজনৈতিক সহিংসতা কমাতে দলগুলোর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন