জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জ্বালানি সংকট, বাজারের অস্থিরতা ও কৃষিতে উৎপাদন ব্যয়ের চাপ - এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তিনি সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাস্তবতার সঙ্গে স্লোগানের মিল না থাকলে জনগণের আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়। শনিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।
বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, দেশে এখন জ্বালানির জন্য ‘হাহাকার’ চলছে, অথচ সংসদে সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশ যেন তেলের ওপর ভাসছে। তার ভাষায়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিন্ডিকেট ভেঙে না দিলে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতি ফিরবে না। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাচ্ছে না, কিন্তু একই সঙ্গে চোরাই তেল ও ভেজালের অভিযোগও সামনে আসছে।
কৃষিকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’ তিনি মনে করেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের বাস্তবতায় কৃষি, ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল খাত এবং মানবসম্পদ , এই তিনটিকে সমন্বিতভাবে শক্তিশালী করতে হবে। সেমিনারে তিনি বলেন, কৃষিতে জ্বালানির উল্লেখযোগ্য চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এই খাতকে প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না; ফলে সেচ, উৎপাদন ও সরবরাহ - সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হচ্ছে। কৃষি বিপর্যস্ত হলে বৈদেশিক ঋণ নিয়েও সেই ক্ষতি সামাল দেওয়া যাবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রতি কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রস্তাবও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং অগ্রাধিকারভিত্তিতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সোলারসহ বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিতে হবে। তার মতে, আমদানি-নির্ভরতার পাশাপাশি দেশীয় সক্ষমতা, বিশেষ করে জ্বালানি অনুসন্ধান ও উত্তোলনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, সমাজ ‘গোজামিলের’ মধ্য দিয়ে চলছে এবং এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে কৃষি, শিল্প ও সেবাখাত - কোনোটিই স্থিতিশীল হবে না। তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহি এবং ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা না গেলে সংকট আরও গভীর হবে। তার ভাষায়, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে একই ধরনের ব্যর্থতা বারবার ফিরে আসবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন