ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে রক্ষা করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে রক্ষা করবে এবং এর কোনো বিকল্প থাকবে না।
এই ঘোষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আসে। খামেনি এসব কথা বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বক্তব্যে বলেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করেছিল, যার ফলে খামেনি পরিবারের একজন সদস্য, তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। তার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি তীব্র ভাষায় ইরানের ক্ষমতা ও আত্মমর্যাদা রক্ষা করার কথা বলেছেন।
এ সময় খামেনি বলেন,ইরানের ৯ কোটি গর্বিত নাগরিক দেশের জাতীয় সম্পদ হিসেবে আমাদের আধ্যাত্মিকতা, মানবসম্পদ, বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা, শিল্প ও প্রযুক্তিগত ক্ষমতা রক্ষা করে, যা ন্যানোপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য
এছাড়াও পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন খামেনি। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থান নেই। তাদের একমাত্র স্থান হলো পানির তলদেশে।’
তিনি আরও বলেন, আল্লাহর সাহায্যে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থান থাকবে না; বরং এটি হবে অঞ্চলের জনগণের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য।
মোজতবা খামেনি বলেন,পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরসংলগ্ন দেশগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন ভাগ্য বা সামষ্টিক ভবিষ্যত রয়েছে। হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আসা বিদেশিরা এখানে লোভ ও বিদ্বেষ নিয়ে আসে, কিন্তু এখানে তাদের কোনো স্থান নেই।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন