ভারতের তরুণদের নিয়ে গড়ে ওঠা অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে দেশটির শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই কোটি কোটি অনুসারী পাওয়া সংগঠনটি ভারতের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষার ফলাফলে ভুলের মতো ইস্যুতে ক্ষুব্ধ তরুণদের একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছে দলটি।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অভিজিৎ দিপকে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আমি ভারতে ফিরছি।” তিনি তরুণদের দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা তাদের সাংবিধানিক অধিকার।
দিপকের দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে প্রায় আট লাখ শিক্ষার্থী একটি আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন। তবে এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সিজেপির দ্রুত উত্থান মোদির ১২ বছরের শাসনামলে অন্যতম বড় অনলাইনভিত্তিক ভিন্নমতের আন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনে জয় পেলেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সংকট এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে জনঅসন্তোষ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটি এসেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্য থেকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি কিছু বেকার তরুণকে ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তার মন্তব্যটি ‘ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারীদের’ উদ্দেশে ছিল, তরুণদের অপমান করার জন্য নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে দলটির অনুসারী সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখের বেশি।
গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিজিৎ দিপকে জানান, ভারতে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে-এ আশঙ্কায় তার পরিবার ও বন্ধুরা উদ্বিগ্ন। তবে তিনি বলেন, “আর কতদিন ভয় নিয়ে বাঁচব?”
এদিকে ভারত সরকার সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দিপকের অভিযোগ, অজ্ঞাত হ্যাকাররা তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেছেন, সিজেপি পাকিস্তান ও ‘ভারতবিরোধী গোষ্ঠী’র সহায়তায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।
সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুনঃপরীক্ষার প্রশ্নপত্র ডাক বিভাগের বদলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর মাধ্যমে পরিবহনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
তরুণদের চাকরি সংকট নিয়েও সরব হয়েছে সিজেপি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে গত বছর বেকারত্বের হার ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ, যা দেশের সামগ্রিক বেকারত্ব হারের তিন গুণেরও বেশি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন