একটি সমাজের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শ্রমজীবী মানুষ। তাদের নিরলস পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা সমাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। তবুও এত অবদানের পরেও এই শ্রমিকরাই প্রায়ই অবহেলা, বঞ্চনা এবং যথাযথ মূল্যায়নের অভাবে ভোগে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, পহেলা মে উপলক্ষে শ্রমিকদের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা এবং তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম নিয়ে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন মোঃ রাব্বি।
আলোচনার বাইরে রয়ে যায় গ্রাম বাংলার শ্রমিকেরা
১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস এলেই শহরজুড়ে র্যালি, সেমিনার ও নানা আয়োজন চোখে পড়ে। শ্রমিকের অধিকার নিয়ে জোরালো বক্তব্যও উঠে আসে। কিন্তু এই আলোচনার বাইরেই রয়ে যায় গ্রামবাংলার এক কঠিন বাস্তবতা।
সম্প্রতি অকাল বৃষ্টি ও পানিতে ডুবে অনেক কৃষকের পাকা ধান নষ্ট হয়েছে। কেউ ফসল ঘরে তুলতে পারেননি, আবার যারা তুলেছেন তারাও বাজারে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। উৎপাদন খরচ বাড়লেও দাম থাকে অনিশ্চিত, ফলে কৃষকের লাভ তো দূরের কথা, অনেক সময় মূলধনই উঠে আসে না।
গ্রামীণ জীবনের এই চিত্র শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং এটি টিকে থাকার লড়াই। প্রকৃতি ও বাজারের চাপের মধ্যে দিনমজুর ও ক্ষুদ্র কৃষকের জীবন প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
তাই শ্রমিক দিবসের তাৎপর্য শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে, মাঠে ঘাটে নীরবে পরিশ্রম করা মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত এই দিনের প্রকৃত প্রতিফলন।
শাহারিয়ার ইকবাল বান্না,
শিক্ষার্থী
সরকারি তিতুমীর কলেজ
শ্রমিকরাই গড়ে তোলে মহাদেশ ও কেল্লা
শ্রমিক কোনো একটি শব্দ নয়, এটি একটি মানবগোষ্ঠী, একটি আর্কিটেকচার, যা ছাড়া মহাবিশ্ব নির্মাণ করা অসম্ভব।
বর্তমান বিশ্বের রত্ন হলো শ্রমিক শ্রেণি। ১৮৮৬ সালে শিকাগোতে এই আর্কিটেকচাররাই তাদের উপর অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, অত্যাচার ও নির্যাতন কমানোর জন্য আন্দোলন করেছিল। তাদের এই আন্দোলনকেই কেন্দ্র করে এখন ১লা মে বিশ্ব শ্রমিক দিবস পালন করা হয়।
কিন্তু বাস্তবে এই দিবস শ্রমিকদের জীবনে কোনো প্রভাব ফেলে না। এই দিবস পালন করে কর্পোরেট শ্রেণির লোকেরা, কারণ তারা শ্রমিকের শ্রমকেই শোষণ করে তাদের পুঁজি ও ব্যবসা বড় করে। তাই তারা আনন্দে এই দিনটিকে খুবই উপভোগ করে।
শ্রমিক দিবস কর্পোরেট শ্রেণির কাছে আসে শ্রমিকদের মূল্য বুঝিয়ে দেওয়ার কথা স্মরণ করানোর জন্য। কিন্তু আফসোস, শ্রমিক তাদের মূল্য বুঝে পায় না।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অবহেলিত শ্রমিক হলো গার্মেন্টস কর্মী। তারা তাদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, নারী শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্য, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মজুরি পরিশোধে অবহেলা, মানসিক নির্যাতন ইত্যাদি সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হন।
তাই শ্রমিক দিবসে শুধু দিবস পালন না করে, শ্রমিকদের তাদের ন্যায্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়াই শ্রমিক দিবসের আসল উদযাপন।
মোঃ তৌহিদুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ
সমাজের প্রতিটি উন্নয়নে শ্রমিকের ঘাম লুকায়িত
সমাজের প্রতিটি চাকা ঘুরানোর পেছনে কাজ করে শ্রমিক শ্রেণি। আধুনিক বিশ্বের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো শ্রমিক। শিল্প, কৃষি, নির্মাণ কিংবা সেবা খাত, সব ক্ষেত্রেই তাদের অবদান অপরিসীম। তবুও অনেক দেশে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোতে শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত।
বাংলাদেশে শ্রমিকদের অবস্থা খুব শোচনীয়। মে দিবস আসে যায়, কিন্তু শ্রমিকদের অবস্থার উন্নয়ন হয় না। বাংলাদেশের শ্রম খাতের মজুরি সবচেয়ে কম। চা শ্রমিকদের বেতন সবচেয়ে কম, এই তুলনায় তাদের পরিশ্রম অনেক বেশি। গার্মেন্টস সেক্টরও অনেক বেশি অবহেলিত। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে শ্রমিকের মজুরি সর্বনিম্ন। এছাড়া সকল খাতের শ্রমের মজুরি কম। বর্তমান সময়েও নারী-পুরুষের বৈষম্য তৈরি করে নারীদের কম মজুরি প্রদান করা হয়।
বিভিন্ন দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের সামান্য অর্থ সহায়তা দেওয়া হলেও, পরবর্তী জীবনে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকে না। রানা প্লাজা দুর্ঘটনাটি উল্লেখযোগ্য। অনেক গার্মেন্টস কর্মী মৃত্যু বরণ ও পঙ্গুত্ব বরণ করে। তাদের পরিবারের সামান্য আর্থিক সহায়তা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয় নি।
তাই শ্রমিকদের উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা পালন করা অনেক বড় দায়িত্ব। শ্রমিক দিবস পালনের মাধ্যমে শ্রমিকদের অবস্থার উন্নয়নে কাজ করা উচিত সরকারের।
মোঃ সিনান মোর্শেদ সম্পদ
শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন