শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় প্রকাশ্যে এক স্কুল শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারের তিন দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত ওই শিক্ষক বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত শিক্ষক নুরুল আমীন রতন নড়িয়ার বিঝারী উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শেষে অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথে ভোজেশ্বর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান শিকদার ও তার সহযোগীরা পথরোধ করে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার ডান হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ সময় শিক্ষকের চিৎকারে আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে দ্রুত শরীয়তপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত শিক্ষক নুরুল আমীন রতন বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে কিছুদিন ধরে তার সঙ্গে বিরোধ চলছিল। বাড়ি ফেরার পথে মিজান শিকদার ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগের বিষয়ে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান শিকদার তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমার নাম জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আমি আইনি ব্যবস্থা নেব।”
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. মফিজুর রহমান স্বপন জানান, আহত শিক্ষকের ডান হাত ভেঙে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নড়িয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল থেকে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন