জাতীয় সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে পারবেন কি না—এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান।
রুমিন ফারহানা বলেন, ইতোমধ্যে প্রতিটি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী, এসব প্রশাসক দলীয়ভাবে মনোনীত। অথচ গণতন্ত্রের দাবিতে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের মানুষ দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রায় চার মাস ধরে দায়িত্বে থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
রুমিন ফারহানা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় শাসনব্যবস্থা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসকদের অধীনে জেলা পরিষদগুলো পরিচালিত হচ্ছে, যা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর কাছে তিনি জানতে চান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ওই নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়েও সরকারের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চান তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছেন আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে, আবার কেউ বলছেন পারবে না। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিরা অংশ নিতে পারবেন-এমন বক্তব্যও শোনা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বিষয়টি পরিষ্কার করলে সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিকদের জন্য সরকারের অবস্থান বোঝা সহজ হবে।
জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আমি আশ্বস্ত করতে পারি যে, যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা যে সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন করতে পারব।”
তবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা হয়নি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন