চলতি বছর শেষে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নতুন সংশোধনীর ফলে এখন থেকে নির্বাচনের নির্ধারিত সময়ের আরও আগে ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি ভোটকক্ষে ভোটারের সংখ্যা বাড়িয়ে ভোটকক্ষের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ভোটগ্রহণের গতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে প্রতিটি ভোটকক্ষে একাধিক গোপন বুথ বা মার্কিং প্লেস স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
গত ৭ জুলাই বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নির্বাচন কমিশনের আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশে বাড়ল সময়
সংশোধিত নীতিমালায় ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত ও প্রকাশের সময়সীমা ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে। আগে ভোটগ্রহণের তারিখের অন্তত ১৫ দিন আগে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার নিয়ম থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে।
ইসির মতে, এতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটাররা ভোটকেন্দ্র সম্পর্কে আগাম জানার জন্য বাড়তি সময় পাবেন।
বাড়ছে ভোটকক্ষের ধারণক্ষমতা
নতুন নীতিমালায় ভোটকক্ষ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচন—দুই ক্ষেত্রেই প্রতি ভোটকক্ষে ভোটারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
সাধারণ নির্বাচনে আগে প্রতি ৪০০ জন পুরুষ ভোটার এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হতো। নতুন নিয়মে প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটার এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করতে হবে।
একইভাবে উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটার এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এক ভোটকক্ষে একাধিক গোপন বুথের সুযোগ
ভোটকক্ষের সংখ্যা কমলেও ভোটগ্রহণের গতি যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য নতুন ব্যবস্থায় প্রয়োজনে একটি ভোটকক্ষে একাধিক গোপনকক্ষ বা মার্কিং প্লেস স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বহাল থাকছে কিছু নিয়ম
সংশোধনের পরও কিছু নিয়ম আগের মতোই রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—গড়ে প্রতি ২ হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ এবং সাধারণ ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যে ভোটকেন্দ্র স্থাপন।
তবে স্থানীয় প্রয়োজন ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় কোনো কোনো এলাকায় একাধিক ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ থাকবে।
ইসি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নীতিমালার ফলে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় ব্যয় ও জনবল কিছুটা কমবে এবং দীর্ঘ সময় হাতে থাকায় কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন