সুইজারল্যান্ডে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল, ইরানের জব্দ করা সম্পদে ছাড় এবং লেবানন যুদ্ধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। কয়েকটি ইস্যুতে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো।
রোববার সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক শহরে এ আলোচনা শুরু হয়। প্রথম ধাপের বৈঠক শেষে সোমবার যৌথ বিবৃতি দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে হামলা, জাহাজ চলাচলে বাধা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যোগাযোগ বজায় রাখবে। বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ভুল-বোঝাবুঝি এড়াতেই এ যোগাযোগ রাখা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, জ্বালানি তেল এবং ইরানের জব্দ করা কিছু সম্পদের বিষয়ে আলোচনায় ‘বড় অগ্রগতি’ হয়েছে।
পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দুই দেশের প্রচেষ্টায় লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে। বার্গেনস্টক অবকাশযাপনকেন্দ্রে সপ্তাহজুড়ে দুই দেশের কৌশলগত আলোচনা চলবে।
আলোচনার মূল লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতির মতো বিরোধপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। পরে ৮ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ১২ ও ১৩ এপ্রিল পাকিস্তানে আলোচনা হলেও তখন কোনো সমঝোতা হয়নি।
এরপর পাকিস্তান, কাতারসহ কয়েকটি দেশ নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। কূটনৈতিক তৎপরতার পর গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
চলমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ সরকারের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে পাকিস্তান ও কাতার। বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল থানি উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সুইজারল্যান্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিস এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও আলোচনায় অংশ নেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন