মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর কোনো ইউরোপীয় দেশ ডিজিটাল সেবা কর আরোপ করলে সেই দেশের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ট্রাম্প বলেন, ইউরোপের কয়েকটি দেশ এ ধরনের কর চালুর পরিকল্পনা করছে এবং কিছু দেশ তা কার্যকরের খুব কাছাকাছি রয়েছে। এমন কর কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
তার দাবি, ডিজিটাল সেবা কর আরোপ করা হলে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে যাবে।
ট্রাম্প লেখেন, “যে দেশই এই কর আরোপ করবে, যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো তাদের সব পণ্যের ওপর অবিলম্বে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।”
যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল সেবা কর
যুক্তরাজ্যে ২০২০ সাল থেকে ২ শতাংশ ডিজিটাল সেবা কর কার্যকর রয়েছে। বড় সার্চ ইঞ্জিন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসের ওপর এ কর প্রযোজ্য।
যেসব প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক ডিজিটাল আয় ৫০ কোটি পাউন্ডের বেশি এবং যুক্তরাজ্যে আয় ২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি, সেগুলোকে এ কর দিতে হয়। অ্যাপল, গুগল, মেটা ও অ্যামাজনের মতো বড় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও এর আওতায় রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ কর থেকে ৮০ কোটি পাউন্ডের বেশি রাজস্ব এসেছে। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৬৭ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড।
এর আগে এপ্রিলে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্য মার্কিন কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করেই এ কর আরোপ করেছে। তার দাবি ছিল, যুক্তরাজ্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সহজে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে।
ইউরোপের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্পের এ হুঁশিয়ারি এলো।
সাইপ্রাসের জ্বালানি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী মাইকেল দামিয়ানোস বলেছেন, চুক্তি লঙ্ঘিত হলে বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইইউ দ্রুত ও যথাযথ জবাব দিতে সক্ষম।
বর্তমানে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ৩ শতাংশ ডিজিটাল সেবা কর আরোপ করেছে। ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের কর চালু করেছে বা চালুর পরিকল্পনা করছে।
২০২৫ সালে আবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর উচ্চ হারে আমদানি শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিয়েছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তার প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে দেয়। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রধান আমদানিকারক দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন