ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশে নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা ও জাতীয় সংসদ এলাকা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি শপথ গ্রহণের সময়সূচি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির কথা জানান।
তিনি জানান, মঙ্গলবার দিনভর কয়েক ধাপে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সকালে প্রথমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এরপর সংবিধান সংস্কার পরিষদের জন্য মনোনীত সদস্যদের শপথ পাঠ করানো হবে। বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।
নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আহমেদ। সংবিধানের ১৫৮ অনুচ্ছেদের ২(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তিনি এই শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব গ্রহণকে সামনে রেখে সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য সরকারি গাড়ি, দেহরক্ষী এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মিন্টু রোড ও হেয়ার রোড এলাকায় মন্ত্রীদের জন্য ৩৭টি সরকারি বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ড. নাসিমুল গনি বলেন, দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের চেষ্টা করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভার শপথের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসান ঘটবে এবং দেশে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন