সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে আবারও আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট এ তথ্য জানিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেভিট বলেন, সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে দোহায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার অংশ নেবেন।
বৈঠকে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বৈঠকের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, কাতারে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, দুই দিন ধরে পরস্পরকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলার পর সহিংসতা বন্ধ করে আলোচনায় ফিরতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
সূত্রের দাবি, বৈঠকে ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে উল্লেখ করা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। বর্তমানে উভয় পক্ষ শান্ত রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও কোনো বাধা নেই।
গত ২৫ জুন গভীর রাতে হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের নৌবাহিনী হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ডিপো এবং রাডার ব্যবস্থায় পাল্টা হামলা চালায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।
এরপর প্রায় দুই দিন সেন্টকম ও ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সেন্টকমের অভিযানের জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে জানায় আইআরজিসি।
এক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ইরানের হামলায় কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দেশ দুটির সেনাবাহিনীও পৃথক বিবৃতিতে জানায়, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।
কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর ২৭ জুন ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিতে আইআরজিসির একটি বিবৃতি প্রচার করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, ২৫ জুন ইরানে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এ জন্য মার্কিন বাহিনীকে মূল্য দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় আইআরজিসি।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন