ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় যোগ দিতে রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই গ্র্যান্ড মুসাল্লা কমপ্লেক্স এবং এর আশপাশের সড়কগুলো শোকাহত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি ও ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ভোর থেকেই কালো পোশাক পরা হাজারো মানুষ গ্র্যান্ড মুসাল্লার দিকে অগ্রসর হন। অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা ও শোক ব্যানার। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ শোকযাত্রায় অংশ নিতে সেখানে জড়ো হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের মেট্রো স্টেশনগুলোর বাইরে ভোর থেকেই দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন মানুষ। যান চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় অনেকে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটেও অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্র্যান্ড মুসাল্লার মূল প্রাঙ্গণে লাল ব্যানার বহনকারী শোকাহতদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। লাল পতাকা ইরানে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ সময় কিছু অংশগ্রহণকারী ‘আমেরিকার মৃত্যু’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দেন।
বিপুল জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে গ্র্যান্ড মুসাল্লার সব প্রবেশপথ খুলে দেওয়া হয় এবং রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
জানাজায় অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি ও উচ্চপর্যায়ের নেতারাও তেহরানে পৌঁছান। উপস্থিত ছিলেন ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, মিসর ও ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি। এছাড়া রাশিয়া, চীন, ভারত, বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের প্রতিনিধিদল এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, হিজবুল্লাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন