জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সকল ধর্মের মানুষের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে ঘর থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল, রাস্তাঘাট ও গণপরিবহন—সব জায়গায় নারীরা নিরাপদ থাকবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকার মিরপুর-১৫-এ গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকায় নারীদের নিরাপত্তা আজ সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। মা-বোনেরা চলাচলে নিরাপদ বোধ করেন না। ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের কারণে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমরা নারীদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়বো, যেখানে সব ধর্মের মানুষ নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবে।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির, মিরপুর-১৫ আসনের আসন পরিচালক আবদুর রহমান মুসা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মিরপুরসহ পুরো ঢাকা মহানগরীকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহরে পরিণত করার অঙ্গীকার করে জামায়াত আমির বলেন,আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা থাকবে। সবার জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে, যানজটের অভিশাপ থেকে ঢাকাবাসীকে মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শিশু পার্ক, খেলার মাঠ ও সবুজায়ন নিশ্চিত করা হবে। একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য রাজধানী গড়ে তোলা হবে। পরবর্তী প্রজন্মকে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ব্যবসায়ীরা যেন নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে।
মিরপুরকে সংগ্রাম ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মিরপুর শুধু ঢাকার একটি এলাকা নয়, এটি সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক। জুলাই বিপ্লবের সময় এই মিরপুর ছিল অন্যতম দুর্গ। অথচ আজ এই এলাকাই অবহেলা, দখলদারি, যানজট, জলাবদ্ধতা ও অপরাধে জর্জরিত।
তিনি বলেন, ঢাকার বুকে বসবাস করেও মানুষ বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার করছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পল্লবী ও কাফরুল এলাকায় হাঁটু পানি জমে যায়। ড্রেন পরিষ্কার নেই, খাল দখল হয়ে গেছে। এই দুর্ভোগ কি জনগণের প্রাপ্য ছিল?
যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস থাকলেও শৃঙ্খলা নেই। ফুটপাত দখলের কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামছে, যা পরিকল্পিত অব্যবস্থাপনার ফল। আমাদের দায়িত্ব দিলে সঠিক ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, বাস রুট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো হবে, মেট্রোরেলের পরিসর বাড়ানো হবে এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। তিনি বলেন,যাদের চাঁদাবাজির মানসিকতা রয়েছে, তারা ফুটপাত দখলমুক্ত করতে চায় না। জামায়াতে ইসলামী এই অভিশাপ থেকে মুক্ত।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সড়কগুলো টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করা হবে এবং জাতীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে মিরপুরকে ঢাকার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা হবে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর রাজনীতি বন্ধ করা হবে। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখা হবে। কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে।
যুবসমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,মিরপুরের যুবক-যুবতীরা হাত পাতবে না, তারা উদ্যোক্তা হবে। আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, ফ্রিল্যান্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে, বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
শেষে তিনি বলেন, আমরা পুরোনো দিনের সহিংসতা ও পেশিশক্তির রাজনীতি নয়, গণমানুষের কল্যাণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। দেশপ্রেমিক, যোগ্য ও দক্ষ মানুষ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে।
মিরপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মান, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে সুযোগ দেওয়ার।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন