সম্প্রতি আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের সংঘাত চরম পর্যায়ে উঠেছে। সিমান্তবর্তী এই দুই দেশের মধ্যে আগের যে কোন সময়ের তুলনায় এবারের সংঘাত অনেক বেশি রক্তক্ষয়ী।
এই রক্তক্ষয়ী হামলায় দুই দেশের সামরিক সহ বহু বেসামরিক লোক প্রাণ হারিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে তালেবান শাষকরা শুক্রবার বলেছেন, তারা আলোচনা করতে ইচ্ছুক। সংলাপের মাধ্যমে এইটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে চায় তারা।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানের নঙ্গরহর এবং পকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বিক্ষিপ্তভাবে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ।
এরপর বৃহস্পতিবার রাত থেকে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় কামান, মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া গাড়ি বহর নিয়ে কার্যত মুখোমুখি লড়াই করেছে পাকিস্তানের সেনা এবং আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী।
উভয় পক্ষই ভারী ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তার দেশ প্রতিবেশীর সঙ্গে 'প্রকাশ্য যুদ্ধে' লিপ্ত।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের এক বাসিন্দা বলেন, "বিমান এসে দুটো বোমা ফেলে গেছে। এরপর আমরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। প্রত্যেকেই আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নেমেছে। আর গুদামে বিস্ফারণ ঘটেছে।"
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বলেছে, তালেবানের সামরিক কার্যালয় এবং ফাঁড়িগুলোতে আকাশ থেকে মাটিতে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
ওদিকে, আফগান তালেবান বলেছে, তাদের বাহিনী পাকিস্তানের সামরিক নিশানাগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে পাকিস্তান বলছে সবগুলো ড্রোনই ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান তাদের মাটিতে জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি হামলা উৎসাহিত করছে। তবে আফগানিস্তান এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলেছে।
আফগানিস্তান বলছে, তারা ২২ ফেব্রয়ারিতে পাকিস্তানের হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার হামলা চালিয়েছে। তবে তারা আলোচনায় বসতেও প্রস্তুত রয়েছে।
কাতারের জুনিয়র পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আল-খালিফির সঙ্গে টেলিফোনে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির কথার উদ্ধৃতি দিয়ে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, "আফগানিস্তান কখনও সহিংসতার সমর্থক ছিল না এবং সবসময়ই পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মানের ভিত্তিতে সমস্যার সমাধার করতে পছন্দ করে।
"তবে এই দৃষ্টিকোণ কেবল তখনই কার্যকর হবে যদি অপর পক্ষ সমাধান খুঁজে বের করতে আন্তরিক ইচ্ছা দেখায় এবং বাস্তবিক পদক্ষেপ নেয়।"
কাতার গতবছর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের লড়াই থামাতে সহায়তা করেছিল। তারা অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে মিলে সাম্প্রতিক সংকট সমাধানের জন্য সাহায্য করছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন