আজ চৈত্রের ৩০ তারিখ, চৈত্রসংক্রান্তি। বাংলা বছরের শেষ দিনে আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যকে ধারণ করে পুরোনো বছরের জরাজীর্ণতা মুছে ফেলে সুন্দর, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় নানা আয়োজন চলছে দেশজুড়ে। জটিলতা, ক্লেশ ও বেদনাকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি সব অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন বাংলা ভাষাভাষী মানুষ।
চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে দেশের গ্রামগঞ্জে বসে মেলা, আয়োজন করা হয় উৎসব। হালখাতার জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠিখেলা, গান, সংযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য, শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে পুরোনো বছরকে বিদায় জানানো হয়। চৈত্রসংক্রান্তির প্রধান উৎসবগুলোর মধ্যে চড়ক অন্যতম। চড়ক গাজন উৎসবের একটি প্রধান অঙ্গ। এ উপলক্ষে এক গ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে অন্য গ্রামের শিবতলায় গিয়ে শেষ হয়।
চৈত্রসংক্রান্তি উদযাপনে রাজধানী ও পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু আয়োজন
শিল্পকলায় পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান
চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে ৫ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান সবার জন্য উন্মুক্ত। আজ বেলা ৩টায় একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে শুরু হওয়া এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর।
প্রথম দিনের আয়োজনে থাকছে অর্কেস্ট্রা, ধামাইল নৃত্য, জারিগান, পটের গান, পুঁথিপাঠ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবেশনা, সমবেত নৃত্য, তারকা শিল্পীদের পরিবেশনা এবং যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’। পাশাপাশি জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারি-৪-এ লোকশিল্প প্রদর্শনীরও উদ্বোধন হবে।
গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের আয়োজন
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে চৈত্রসংক্রান্তি ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। আয়োজকদের ভাষ্য, আজ বিকেল ৫টায় রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মূল মিলনায়তনে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। সাংস্কৃতিক পর্বে থাকবে নৃত্য, লোকসংগীত এবং সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের গান। একই সঙ্গে প্রবীণ গ্রুপ থিয়েটার শিল্পীদের সম্মাননা দেওয়া হবে।
এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা রয়েছে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাট্যশিল্পী লাকি ইনাম।
পাহাড়ে-রাজধানীতে ঐতিহ্যবাহী উৎসব
পুরোনোকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পাহাড়ি জনপদেও চলছে নানা আয়োজন। রাজধানীতে বসবাসকারী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীও উদযাপন করছে তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব- বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, বৈসু, চাংক্রান ও চাংলান।
এ উৎসবকে জীবনকে নতুন করে দেখার এক অনন্য উপলক্ষ হিসেবে বর্ণনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুরোনো বছরের গ্লানি, ক্লান্তি ও বেদনা ধুয়ে-মুছে নতুন দিনের স্বপ্নে বিভোর হওয়ার আনন্দঘন মুহূর্ত হিসেবেই ধরা হয় এ সময়কে।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, উৎসবের রঙিন আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণীদের প্রাণবন্ত নাচ, পাহাড়ি সুরের মূর্ছনায় গান এবং হাসি-আনন্দে ভরা মিলনমেলা-সব মিলিয়ে অপূর্ব নান্দনিক আবহ তৈরি হয়। তিনি বলেন, চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই এবং ত্রিপুরাদের বৈসু-প্রতিটি উৎসবেই রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির গভীর ছাপ। তবে সবার মাঝে একটি অভিন্ন সুর রয়েছে- সম্প্রীতি, সহমর্মিতা এবং নতুনকে বরণ করার অদম্য উচ্ছ্বাস।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন