বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চুরি, ডাকাতি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে যাবে। তবে আবার যদি দেশ অপশাসনের কবলে পড়ে, তাহলে আরও পঞ্চাশ বছরেও জাতির ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের (মিরপুর-কাফরুল) ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত গণসংযোগ ও নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ভিক্ষুক এমনকি বাড়ির মালিকরাও আজ চাঁদাবাজির শিকার। তিনি বলেন, দুনিয়ার সবাই চাঁদাবাজি করে জীবন চালায় না। জাতি মুক্তি ও শান্তি চায়। তাই চাঁদাবাজদের আর জনগণকে জ্বালাতন না করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সর্বত্র দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। সেবা নিতে গেলে জায়গায় জায়গায় ঘুষ বা চাঁদা দিতে হয়। বিচার ব্যবস্থা ঠিক না থাকায় সমাজে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অপরাধ বেড়েছে। তিনি বলেন, আমরা এমন সমাজ চাই যেখানে ইনসাফ কায়েম হবে এবং বিচার সবার জন্য সমান হবে। এখানে রাজা-প্রজা নেই; রাষ্ট্রপতি থেকে ভ্যানচালক—সবাই আইনের আওতায় থাকবে।
শিশুদের প্রসঙ্গে আমীরে জামায়াত বলেন, শিশুরা জাতির সম্পদ। সুশিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তারাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। বস্তিতে জন্ম নেওয়া কোনো হালাল উপার্জনকারী পরিবারের সন্তানও মেধার জোরে একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে—এমন বাংলাদেশ গড়তে চান বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নারীরা ঘরে-বাইরে ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা পাবে। কেউ অপরাধ করে পার পাবে না। সবাইকে দায়িত্বশীল ও সৎ নাগরিক হতে হবে। যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেকারভাতা নয়—দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করা হবে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুবকদের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
১২ ফেব্রুয়ারির ভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই দিন দুটি ভোট হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে ফ্যাসিবাদ প্রত্যাখ্যান। যারা চান না বাংলাদেশ কোনো গোষ্ঠীর রাজ্যে পরিণত হোক, তারা হ্যাঁ ভোট দেবেন। তিনি সবাইকে প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের হ্যাঁ ভোটে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।
ঢাকা-১৫ আসনের সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই এলাকায় রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, খোলা ড্রেন, মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসার অভাব, মাদক ও সন্ত্রাস বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণ আস্থা রাখলে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আমীরে জামায়াত আরও বলেন, আমরা জনগণের সেবক হবো, শাসক নয়। জনগণের সম্পদের প্রতিটি পয়সার হিসাব দেওয়া হবে। দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ।
নারীদের ওপর সহিংসতার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, মায়েদের নিয়ে কোনো অপমানজনক আচরণ সহ্য করা হবে না। হামলাকারীদের অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি লস্কর মো. তসলিম, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সমাবেশ শেষে ডা. শফিকুর রহমান নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন এবং ভোট প্রার্থনা করেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন