চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের ফলে তীব্র শ্রমিক আসন্তোষে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করছে 'চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ'।
পাশাপাশি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাবেন তার ।
বন্দর কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ায় জেটি ও বহিনোঙ্গরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ৯৮টি জাহাজ। এর মধ্যে অতন্ত ৩২টি জাহাজে চাল, ডাল, চিনি, তেল ও খেজুরসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রয়েছে।
এদিকে আন্দোলন দমাতে সোমবার হটাৎ করে ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদল করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের সুপারিশে জারি করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বদলি হওয়া ব্যাক্তিদের মধ্যে বিএনপিপন্থি দুইজন শ্রমিক নেতা রয়েছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, রমজানের আগে এ ধরনের কর্মসূচি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবেন। অন্যথায় প্রশাসন আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা আদেশে দাপ্তরিক প্রয়োজনে মোট ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি ও সংযুক্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে আটজনকে পায়রা বন্দরে এবং সাতজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির ও ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকনকে প্রথমে ঢাকার পানগাঁও টার্মিনালে সংযুক্ত করা হলেও একদিনের মধ্যে যথাক্রমে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়।
তারা দুজনই আন্দোলনকারী সংগঠন 'চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ'-এর সমন্বয়ক এবং জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের শীর্ষ নেতা। একই আদেশে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পায়রা ও মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন