হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
সোমবার এভিয়েশন ও ট্যুরিজম বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম বাংলাদেশের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে হতে যাওয়া চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করেই করা হবে। এ পর্যন্ত জাপানি পক্ষের সঙ্গে নয়বার আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “চুক্তিটি সম্পূর্ণ ফেয়ার হবে। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন, আমরা তাই করব। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, দেশের স্বার্থ সম্পূর্ণ রক্ষা করা হবে।”
চেয়ারম্যান জানান, আলোচনায় কিছু বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হলেও এখনো কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি।
চুক্তির সময়সীমা নিয়ে তিনি বলেন, আলোচনা শেষ হওয়ার পর চুক্তি সই হতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে। এরপর ৬ মাস থেকে এক বছরের একটি টেস্ট রান পরিচালনা করা হবে। টেস্ট রানের প্রায় ছয় মাস পর সীমিত আকারে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার ১৬ ডিসেম্বরকে একটি লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই সময়সীমা সামনে রেখে কাজ এগিয়ে চলছে।
দ্রুত বিমানবন্দর শিফটিংয়ের ঝুঁকি তুলে ধরে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞের গবেষণা অনুযায়ী, একটি বিমানবন্দর থেকে অন্যটিতে কার্যক্রম স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অনেক সময় জটিলতা তৈরি হয়। তাই সময় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে এগোনো হচ্ছে।
তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হবে বলেও জানান বেবিচক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি এবং সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার অডিট প্রসঙ্গে তিনি জানান, সর্বশেষ অডিট হয়েছে ২০১৮ সালে। ২০২৪ সালে অডিট টিম আসার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা আসেনি। চলতি বছরের অক্টোবরে একটি অডিট টিম আসার কথা রয়েছে। তবে মূল অডিট ২০২৭ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষের মধ্যে হতে পারে।
দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সতর্কতা জারির বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশনা পাওয়ার পর বেবিচক সিকিউরিটি অ্যালার্ট জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লবসহ সংগঠনটির সদস্য এবং বেবিচকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন