ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে শব্দযন্ত্র বা সাউন্ড সিস্টেমে যে বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল, তার পেছনে কোনো নাশকতা বা অন্তর্ঘাত ছিল কি না, তা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ও সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলে সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যার কারণে কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। পরদিনের বৈঠকেও হেডফোন ও সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, সাউন্ড সিস্টেমে সত্যিই কোনো নাশকতা হয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। একই সঙ্গে যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধানের উপায় নির্ধারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি দুটি বিষয় খতিয়ে দেখবে-প্রথমত, কোনো নাশকতা হয়েছে কি না; দ্বিতীয়ত, সাউন্ড সিস্টেমের প্রকৃত সমস্যা কী এবং তার সমাধান কী হতে পারে।
সংসদ সদস্যদের ব্যবহৃত হেডফোন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, বিদ্যমান হেডফোন নিয়ে সবারই অভিযোগ রয়েছে; এগুলো ব্যবহার করতে অসুবিধা হয় এবং দ্রুত পরিবর্তন করা হবে।
বৈঠকে সংসদ সদস্যদের আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নূরুল ইসলাম জানান, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্পিকার, চিফ হুইপ ও হুইপদের বাইরে অন্য সংসদ সদস্যদেরও আবাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনা শেষ করে আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে বাসা বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাউন্ড সিস্টেম সংস্কারে দেরি হওয়ার কারণ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তবে এখন সবকিছু নিয়মমাফিক চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন