মালিক বা শ্রমিকদের কল্যাণে নিবন্ধিত কোনো সমিতি নির্ধারিত হারে অর্থ সংগ্রহ করলে সেটিকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না -এমন মন্তব্য আবারও করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মালিক সমিতি বা শ্রমিক সংগঠন যদি তাদের সদস্যদের কল্যাণের জন্য নির্ধারিত নিয়মে এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে অর্থ সংগ্রহ করে, তাহলে সেটিকে চাঁদাবাজি বলা ঠিক নয়। একটি নিবন্ধিত সমিতি তাদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, কোনো সংগঠনের বৈধ নিবন্ধন না থাকলে বা কেউ স্বেচ্ছাচারীভাবে মালিক, শ্রমিক কিংবা পরিবহন খাত থেকে অর্থ আদায় করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকেও সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হবে। এ ছাড়া মোবাইল কোর্ট, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয় থাকবে এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারাও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে শেখ রবিউল আলম বলেছিলেন, সমঝোতার ভিত্তিতে পরিবহন থেকে অর্থ নেওয়া হলে তা চাঁদা নয়; বরং কাউকে জোর করে অর্থ দিতে বাধ্য করা হলে সেটিই চাঁদাবাজি।
তার ওই বক্তব্যকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও নিন্দা জানায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি এ ধরনের মন্তব্যকে গুরুতর অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার অজুহাত হিসেবে উল্লেখ করে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন