স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অবস্থানে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এনসিপি আসন্ন নির্বাচনে নিজস্ব প্রার্থী ঘোষণা করে পরে জোটগত সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও জামায়াত বলছে, তারা আপাতত দলীয় সক্ষমতা যাচাই করতে চায়।
দুই দলের ভিন্ন অবস্থানকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ার বিধান থাকলে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা কতটা আইনসংগত, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা।
দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিন-তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সরকারি দল বিএনপি ও সমমনা জোট এ নিয়ে তেমন সক্রিয় না হলেও ১১ দলীয় জোটের জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রার্থী করা হয়েছে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে। এ ছাড়া সব সিটিতেই সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি।
এর বাইরে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। আগামী ২০ মে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে এনসিপি। এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এনসিপি সূত্র জানায়, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গাজীপুরে এক লাখের বেশি ভোট পাওয়া, নারায়ণগঞ্জে সাফল্য এবং চট্টগ্রামে নতুন সমীকরণ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে দলটি।
এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি থাকলেও স্থানীয় বাস্তবতায়, বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা-উপজেলায় শেষ পর্যন্ত জোটগত সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন এনসিপির নেতারা।
অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে দলটির অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি চলছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন জামায়াতের উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে প্রস্তুতি এগোচ্ছে। সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের শক্তি ও প্রভাব যাচাই করতে চায় জামায়াত।
দলটির নেতারা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। ফলে এটি ব্যক্তি সক্ষমতা ও স্থানীয় প্রভাবের ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র। তাদের মতে, এখানে জোটগত সমীকরণ সবসময় প্রযোজ্য হয় না।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন