বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ারকে স্মরণ করে তাঁর প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানাতে যাচ্ছে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা।
রাজ্যসভার বুধবারের কার্যসূচিতে দেখা যায়, অধিবেশনে প্রয়াতদের স্মরণ পর্বে খালেদা জিয়াসহ মোট তিনজনের জন্য শোক প্রস্তাব তোলা হবে। বাকি দুজন হলেন রাজ্যসভার সাবেক দুই সদস্য এল গণেশন ও সুরেশ কলমাদি। দিনের অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের পরপরই তাদের জন্য শোকপ্রস্তাব তোলা হবে।
গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর আসার পরপরই এক এক্স পোস্টে শোক জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক একটি পত্রও দেন তিনি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ভারত সরকারের শোকবার্তা তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন। বিএনপির তখনকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে 'প্রিয় তারেক রহমান সাহেব' সম্বোধন করে মোদী সেখানে লেখেন, খালেদা জিয়ার প্রস্থান 'অপূরণীয় শূন্যতা' সৃষ্টি করলেও তার দৃষ্টিভঙ্গি ও উত্তরাধিকার টিকে থাকবে। এরপর ১ জানুয়ারি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে শোক বইতে তিনি লেখেন, 'ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।'
চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের মধ্যে খালেদা জিয়ার জন্য শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে মোদী সরকারের এমন উদ্যোগী ভূমিকাকে বিএনপির নতুন নেতৃত্বের প্রতি দিল্লির 'কৌশলগত যোগাযোগ চেষ্টা' হিসেবে বর্ণনা করা হয় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন