আজ ২ মার্চ-বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য ও গৌরবময় দিন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস। আজ থেকে ৫৫ বছর আগে, ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন প্রাঙ্গণের ঐতিহাসিক বটতলায় প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে উত্তাল ছাত্র-জনতার সামনে সেই পতাকা উড্ডীন হয়েছিল।
অগ্নিঝরা মার্চের ২ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-জনতার বিশাল সমাবেশে তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আবদুর রব প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সে সময় ব্যবহৃত পতাকাটি বর্তমান পতাকার তুলনায় কিছুটা ভিন্ন ছিল সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্ত এবং তার মাঝখানে সোনালি রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র।
ওই দিন দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং রাতে সচিবালয় প্রাঙ্গণ থেকে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের নতুন পতাকা উত্তোলন করা হয়। এই ঘটনাগুলো বাঙালি জাতির স্বাধীনতার অভিযাত্রাকে আরও সুসংহত করে তোলে।
২ মার্চের পতাকা উত্তোলন কেবল একটি প্রতীকী আয়োজন ছিল না; বরং এটি ছিল স্বাধীনতার পথে বাঙালির আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা। ডাকসু নেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে এবং দেশজুড়ে স্বাধিকার আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার হয়। এই ঘটনাই ছাত্র-জনতাকে স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে দেয়।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে প্রথম উড্ডীন হয় ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল। ভারতের কলকাতায় তৎকালীন বাংলাদেশ মিশনে ডেপুটি হাইকমিশনের প্রধান এম হোসেন আলী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে প্রথমবারের মতো জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবি তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সকাল ১০টায় কলাভবন সংলগ্ন ঐতিহাসিক বটতলায় দিবসটি উদযাপিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আ স ম আবদুর রব। তিনি সেদিনের স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেবেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন