মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ও আমদানি ব্যয় বাড়লেও আগামী কয়েক মাস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, বাড়তি চাপ মোকাবিলায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনো স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আছে।
রোববার (২৯ মার্চ) জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নবনিযুক্ত গভর্নর এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে একই সঙ্গে মুদ্রানীতিতে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে গভর্নর বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির বর্তমান বাস্তবতায় সুদের হার কমানো হবে অবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ। তার ভাষায়, স্বল্পমেয়াদি প্রবৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক স্থিতিশীলতাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তিনি আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
সভায় ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদ জানান, বর্তমানে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার, যা কয়েক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট। তিনি আরও বলেন, জুনের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যালান্স অব পেমেন্টে চাপ কমাতে আরও ২ বিলিয়ন ডলারের একটি ক্রেডিট লাইন নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
গভর্নর জানান, জ্বালানি ব্যয় কম রাখতে সরকার তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা বা সরাসরি সহায়তার মাধ্যমে কম দামে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়ার বিষয়ও চূড়ান্ত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতিতে নতুন মূল্যস্ফীতির চাপ ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যখন ৬২ থেকে ৬৫ ডলারের মধ্যে ছিল, তখন বছরে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হতো ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এখন দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় আমদানি ব্যয়ও অনুপাতে বাড়তে পারে। তবে হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকলে এই বাড়তি চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, সরকারের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যেসব জ্বালানি আমদানি করা হয়, সেগুলো চুক্তিমূল্যেই আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন