রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়া (৩৭) হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি হেলেনা বেগম (৪০) ও তার মেয়ে হালিমা আক্তারকে (১৩) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার দুপুরে র্যাব-৩ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাইদুর রহমান।
তিনি বলেন, “পরকীয়া সম্পর্ক, অর্থ লেনদেন এবং আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।”
র্যাব জানায়, নিহত মোকাররম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা। একই গ্রামের আরেক প্রবাসী সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার হাসনার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে তাসলিমাকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দেন মোকাররম। গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে তিনি ঢাকায় আসেন। পরে তাসলিমার বান্ধবী হেলেনার মান্ডার ভাড়া বাসায় ওঠেন। সেখানে হেলেনা ও তার দুই মেয়ের সঙ্গে একই কক্ষে অবস্থান করছিলেন তিনি।
র্যাবের দাবি, ওই রাতে তাসলিমার সঙ্গে বিয়ে ও টাকার বিষয় নিয়ে মোকাররমের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি তাসলিমাকে দেওয়া টাকা ফেরত চান এবং আপত্তিকর ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। একই সঙ্গে হেলেনার নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে অসামাজিক আচরণের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এরপর তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে দাবি করেছে র্যাব। সংস্থাটির ভাষ্য, পরদিন সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয় মোকাররমকে। পরে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হলে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় হাতুড়ি ও বটি দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়।
র্যাব জানায়, মোকাররমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ খণ্ড করে পলিথিন ও বস্তায় ভরে রাখা হয়। পরে গভীর রাতে মান্ডার বিভিন্ন স্থানে মরদেহের খণ্ডাংশ ফেলে দেওয়া হয়। মাথার অংশ আলাদা করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফেলে রাখা হয়।
ঘটনার পরদিন অভিযুক্তরা বাইরে ঘোরাফেরা করেন বলেও দাবি করেছে র্যাব। পরে মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হেলেনা ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের মাথার অংশও উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামি তাসলিমা আক্তারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন