প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ভোক্তাবান্ধব বলে মন্তব্য করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। তবে বাজেটের প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে কি না, তা সঠিক বাস্তবায়ন ও কার্যকর তদারকির ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১৩ জুন) বাজেট নিয়ে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন এসব কথা বলেন। ক্যাবের তথ্য কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়াটি পাঠান।
এস এম নাজের হোসাইন বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যে কর হ্রাস, তামাকজাত পণ্যে কর বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম আমদানিতে কর কমানো এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো সাধারণ ভোক্তাদের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ।
তবে এসব সুবিধা ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন পণ্যে কর ছাড় ও সুবিধা দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তদারকির ঘাটতির কারণে কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ঘটনাও ঘটেছে।
ব্যবসায়ীরা সরকারি নীতির বাইরে গিয়ে কোনোভাবে অতিরিক্ত সুবিধা নিচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত নজরদারিতে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
কনটেন্ট নির্মাতা ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য প্রস্তাবিত কর সুবিধাকে স্বাগত জানিয়ে নাজের হোসাইন বলেন, অধিকাংশ মানুষ কর দিতে আগ্রহী হলেও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অনেকে কর ব্যবস্থার বাইরে থেকে যান। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ও প্যাকেজভিত্তিক কর কাঠামো চালু হলে রাজস্ব আহরণ বাড়তে পারে।
৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের ট্রেন ও মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর ছাড়ের প্রস্তাবকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করবে। তবে প্রবীণ নাগরিকরা বাস্তবে এসব সুবিধা কতটা পাবেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রয়োজন।
সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর অব্যাহতি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের নিবন্ধন ও নবায়ন ফি কমানোর উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছে ক্যাব। সংগঠনটি মনে করে, গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের সীমাবদ্ধতা দূর করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানালেও ক্যাব বলেছে, বরাদ্দের পরিমাণের চেয়ে এর কার্যকর বাস্তবায়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।
বাজেট বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে নাজের হোসাইন বলেন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে দলীয় প্রভাব থাকলে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তবে বাজেটের কয়েকটি দিক নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করেছে ক্যাব। সংগঠনটির মতে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম জোরদারে আরও বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল।
এ ছাড়া আয়করমুক্ত সীমা পাঁচ লাখ টাকা না করা, নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি না বাড়ানো এবং শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন ও গণপরিবহন খাতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়াকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
ক্যাব আশা প্রকাশ করেছে, বাজেটের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ, কৃষক ও ভোক্তারা এর সুফল পাবেন এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন