ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সামর্থ্য ও সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ, পদক বিতরণ এবং পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠান-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল এনডিসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে বর্তমানে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস সেবা দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ কারণে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও চলছে। এ ছাড়া ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নৌযান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় বাহিনীর সেবা সক্ষমতা আরও বাড়বে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি করতে ফায়ার সার্ভিসের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গত ১ মে থেকে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতেও সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, বাহিনীর সদস্যদের আপগ্রেডেশনসংক্রান্ত বেশ কিছু প্রস্তাব অন্যান্য বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে বিবেচনা করা হচ্ছে। আবাসন সমস্যা সমাধানে ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প এবং মিরপুরে সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ ভাতা হিসেবে ‘ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা’ এবং ফ্রেশ মানি প্রদানের বিষয়টি পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে তিনি পাসিং আউট প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।
পাসিং আউট প্যারেডে স্টেশন অফিসার ও স্টাফ অফিসার ক্যাটাগরিতে ১২ জন, ফায়ারফাইটার ক্যাটাগরিতে ১৫৮ জন, নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট ক্যাটাগরিতে ২ জন, ড্রাইভার ক্যাটাগরিতে ৫৬ জন এবং ডুবুরি ক্যাটাগরিতে ৬ জনসহ মোট ২৩৪ জন অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বহুমাত্রিক বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে পদক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ২০২৩ সালের ৩৪ জন এবং ২০২৪ সালের ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন