পর্যাপ্ত ক্রুড ও রিফাইন্ড লবণের মজুত থাকলেও কোরবানির ঈদের আগে বাজারে লবণের দাম বাড়ছে। বৃষ্টির অজুহাতে গত ১৪ দিনের ব্যবধানে চামড়া সংরক্ষণে ব্যবহৃত ৭৪ কেজির প্রতি বস্তা লবণের দাম বেড়েছে প্রায় ২৫০ টাকা। একই সময়ে খাবার লবণের বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ২০০ টাকা।
মাঠ পর্যায়ের কিছু কৃষক কৌশলে ক্রুড লবণ মজুত করে দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন মিলে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৪২ মেট্রিক টন ক্রুড ও ক্রাশ লবণ মজুত রয়েছে। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ে আরও অন্তত ২০ হাজার ৪১৭ মেট্রিক টন ক্রুড লবণ মজুত আছে।
চলতি বছর কোরবানির ঈদে সম্ভাব্য ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার পশুর চামড়া সংরক্ষণে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন লবণ প্রয়োজন হতে পারে।
গত দেড় মাসে চট্টগ্রামের মিলগুলো থেকে কয়েক লাখ মেট্রিক টন রিফাইন্ড লবণ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রতিবছর অতিরিক্ত প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টন লবণ প্রয়োজন হয়। সে অনুযায়ী মিলগুলো প্রস্তুত ছিল। তবে খারাপ আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে চাষিরা মাঠ থেকে লবণ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন।
চাহিদার তুলনায় মজুত বেশি থাকার পরও বাজারে প্রতিদিন লবণের দাম বাড়ছে। চলতি মে মাসের শুরুতে মিল পর্যায়ে চামড়া সংরক্ষণে ব্যবহৃত মাঝারি মানের ৭৪ কেজির প্রতি বস্তা লবণ ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ৯৩০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ৮১০ টাকার ভালো মানের খাবার লবণের বস্তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ টাকায়।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের প্রায় ৭০ হাজার একর জমিতে এবার লবণ চাষ হচ্ছে। কক্সবাজারের টেকনাফ, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে ক্রুড লবণ চট্টগ্রামের মাঝিরঘাটের মিলগুলোতে আনা হয়। পরে সেগুলো রিফাইন করে দেশের বিভিন্ন গুদাম ও মোকামে পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, মাঠ থেকে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত লবণ অন্তত আটবার হাতবদল হয়। প্রতিবারই দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের মাঝিরঘাটের মেসার্স জামাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, উৎপাদনের সময় প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, মাঠ পর্যায়ে ক্রুড লবণ উৎপাদনে জমির বর্গা, পলিথিন ও নৌকা ভাড়ার খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে। গত মাসে ৭৪ কেজির প্রতি বস্তা ক্রুড লবণ ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে।
চট্টগ্রাম মাঝিরঘাটের ক্রুড লবণ সরবরাহকারী আবদুস শুক্কুর বলেন, বর্তমানে ৭৪ কেজির প্রতি বস্তা ক্রুড লবণ ৮৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন