ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের উৎপাদন ও সংরক্ষণে প্রতিবন্ধক ক্ষতিকর জালের উৎপাদন বন্ধে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মৎস্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫-২৬-এর মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকারে এমন কিছু জাল ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মাছের উৎপাদন ও সংরক্ষণে বাধা সৃষ্টি করছে। এসব ক্ষতিকর জালের উৎপাদন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইলিশকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য, গর্ব ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতের সঙ্গে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি জড়িত। ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশে ৪০ লাখের বেশি মানুষ ইলিশ উৎপাদন, আহরণ ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। ফলে এ খাত কর্মসংস্থানেরও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ইলিশসম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি জানান, গত বছর প্রায় ৪০ হাজার জেলেকে ভিজিএফ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সহায়তার পরিমাণ ও আওতা আরও বাড়ানো হবে, যাতে নিষিদ্ধ সময়ে জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৩ সালে ইলিশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের সব শ্রেণির মানুষকে সুবিধার আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৎস্যজীবীরাও কৃষক কার্ডের সুবিধা পাবেন।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার ও সৈয়দা নওয়ারা জাহান এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র।
এ ছাড়া ইলিশ উন্নয়নসংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন