গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক নির্যাতন ও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রংপুর-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
এটিএম আজহার বলেন, জামায়াতের সাবেক নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের ছয়জন কেন্দ্রীয় নেতা কারাগারে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীও ছিলেন। এসব ঘটনাকে দলটির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্যাতনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
বাজেট প্রসঙ্গে এটিএম আজহার বলেন, বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়নের ওপর। জনগণ সরাসরি উপকৃত হলেই বাজেটকে সফল বলা যাবে।
তার মতে, বড় আকারের বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আহরণের অনিশ্চয়তা, ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয় সংকোচন বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সরকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাজেটকে কার্যকর ও ঋণনির্ভর নয় বলে প্রমাণ করতে পারলে বিরোধী দল স্বাগত জানাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে ইসলামী বন্ড বা সুকুকের ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব দেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, সুকুকের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ধীরে ধীরে সুদনির্ভরতা কমানো সম্ভব।
বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান বাধা হিসেবে দুর্নীতিকে চিহ্নিত করেন এটিএম আজহার। গত ১৭ বছরে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সম্পদের অভাব নয়, সৎ নেতৃত্ব ও সুশাসনের ঘাটতির কারণেই সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।
তিনি সংসদ সদস্যদের সম্মিলিতভাবে দুর্নীতি না করার অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান। তার মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব সততার সঙ্গে কাজ করলে দেশ থেকে দুর্নীতি কমানো সম্ভব।
শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে এটিএম আজহার বলেন, শুধু আইন দিয়ে মানুষকে সৎ করা যায় না। আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া কোনো বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।
জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবির সমালোচনা করে এটিএম আজহার বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসনের পরিবেশ তৈরি করা উচিত নয়। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদের মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন