রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ‘ঢাকা পাইরোলাইসিস কোম্পানি’ নামে একটি বিটুমিন তৈরির কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ দুই শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সোহেল রানা এবং সোমবার সকাল ৯টার দিকে শাওন মুন্ডা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান।
গোয়ালন্দঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সোহেল রানা (২৪) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শামসুদ্দিনের ছেলে। শাওন মুন্ডা (১৬) মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার বিনন্দপুর গ্রামের ছুনু মুন্ডার ছেলে।
গত ২৫ জুন সকালে কারখানাটিতে পুরোনো গাড়ির টায়ার পুড়িয়ে বিটুমিন উৎপাদনের কাজ চলছিল। এ সময় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলে বিকট শব্দে বয়লার বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়লে সেখানে কর্মরত সোহেল ও শাওন দগ্ধ হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, শাওন মুন্ডার শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং সোহেল রানার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আহত দুই শ্রমিক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।’
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কারখানাটি প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই পুরোনো মালামাল ও টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদন করছিল। পরবর্তী সময়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া হলেও গত ডিসেম্বরে সেটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রায় দুই বছর আগে সাভারের আমিনবাজার এলাকার মো. বাহাউদ্দীন নামের এক ব্যক্তি ও স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর সহায়তায় কারখানাটি গড়ে ওঠে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতার কারণে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান বলে দাবি করেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদনের ফলে কারখানা থেকে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়ায়। এতে আশপাশের পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন