সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অর্থবছরের সামগ্রিক দুর্বল প্রবণতার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে মোট রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমেছে।
বৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ সাময়িক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ ৪২০ কোটি ২৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই মাসে এ আয় ছিল ৩৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার।
এক মাসের ব্যবধানে এই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি রপ্তানি খাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাক শিল্পেও জুনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি।
এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতে আয় হয়েছে ১৮৪ কোটি ১ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ১৫৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, যা ২৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
জুন মাসে হোম টেক্সটাইল খাতে ৫৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ে আয় দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ডলারে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ৪৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ে আয় হয়েছে ১২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। একই সময়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি ৪৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
তবে একক মাসের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি পুরো অর্থবছরের চিত্র পাল্টাতে পারেনি। ইপিবির হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৭টি প্রধান পণ্য খাত থেকে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ০.৫৮ শতাংশ কম।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জুন মাসের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি নতুন অর্থবছরের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বৈশ্বিক চাহিদার অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রতিযোগিতার চাপ মোকাবিলা করেই রপ্তানি খাতকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগোতে হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন