দুই কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার বিকেলে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক সাদিক আহম্মেদ তার জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।
সাহেদের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন বলেন, মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের দুই কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, মামলাটি দায়েরের সময় সাহেদ কারাগারে থাকলেও তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। পরে গত বছরের ৪ মে আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১৬ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
আইনজীবী আরও বলেন, সাহেদ কারাগারে যাওয়ায় এখন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষায় জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আলোচনায় আসেন মোহাম্মদ সাহেদ।
২০২০ সালের ৬ জুলাই র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পরীক্ষা ছাড়াই করোনাভাইরাসের সনদ দেওয়া, সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় র্যাব।
পরদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতাল ও এর প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দেওয়া হয়। একই দিনে সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করা হয়।
২০২০ সালের ১৫ জুলাই ভারতে পালানোর চেষ্টার সময় সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে বিভিন্ন মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন।
২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান সাহেদ। তার বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হয়েছিলেন।
তবে দুই কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় জামিন আবেদন নাকচ হওয়ায় তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন