কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে পৃথক দুই অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সভায় খসড়া দুটি অনুমোদন পেয়েছে বলে সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি জানিয়েছেন।
ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে সুচিস্মিতা তিথি বলেন, ''কর্মক্ষেত্র-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬' এর খসড়ায় চারটা অধ্যায় এবং ২০টি ধারা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক হচ্ছে, এই খসড়ায় শারীরিক, মৌখিক, মানসিক, ইঙ্গিতপূর্ণ ও ডিজিটাল স্পেসের আচরণকে যৌন হয়রানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।''পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬' এর কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব তিথি বলেন, ''এর খসড়ায় সাতটি অধ্যায়ে ৩০টি ধারা রয়েছে।এর মধ্যে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, আইনত এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
''নির্যাতনকারী ব্যক্তির সঙ্গে যাতে যোগাযোগ বা ঘনিষ্ঠতা সীমিত করা যায়, সেজন্য এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী আদালতের অভিযোগের ভিত্তিতে অস্থায়ী সুরক্ষা আদেশ এবং তদন্ত শেষে স্থায়ী আদেশ জারি করা যাবে। নির্ধারিত ফর্মে অভিযোগ গ্রহণের পর সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা করতে হবে।''
কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ''নারীরা ডিজিটাল স্পেসে ভয়াবহ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নারী নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি মৌখিকভাবে লিখিতভাবে বা অনলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ করতে পারবে এবং অভিযোগ গ্রহণ করার ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে।'অভিযোগকারীকে নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টিকে বিবেচনা করা হয়েছে এবং শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদাভাবে বিশেষ ব্যবস্থা এই অধদেশে আছে। তদন্তের সম্পূর্ণ গোপনীয়তা যাতে নিশ্চিত করা হয় সেটার প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।''
কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির বিধান থাকছে বলেও জানান সহকারী প্রেস সচিব।''শাস্তি হিসেবে সতর্কীকরণ, বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুত করা, বহিষ্কার করা বা ক্ষতিপূরণের বিধান এখানে আছে। আর অভিযোগ যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রেও এক ধরনের শাস্তির বিধান এই অধ্যাদেশের মধ্যে আছে।'অভিযোগ কমিটিগুলো হবে স্থানীয় পর্যায়ে, জাতীয় পর্যায়ে, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে। ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে আসলে এই কমিটির বিধিমালাটা কীভাবে প্রণয়ন করা হবে, তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।''
উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।এদিন সভায় মোট ১১টি অধ্যাদেশ, প্রস্তাব ও নীতির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন