নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি নেতাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে পূর্বধলা থানায় মামলাটি দায়ের করেন উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের কর্মী আল-আমিন। মামলায় ৬৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর নেত্রকোণা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ৯ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে খাইরুল ইসলাম (৩৮) এজাহারভুক্ত আসামি। বাকি আটজন অজ্ঞাতনামা আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার আতকাপাড়া এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে প্রশাসন ও পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংসদ সদস্যের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরে জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি মাগরিবের নামাজ আদায় করছিলাম। এ সময় তারা আমার গাড়িতে হামলা চালায়। নামাজখানায় ঢুকেও আমাদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে।”
তবে বিএনপি নেতা বাবুল আলম তালুকদার বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে এমপিকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীন জাহান বলেন, কিছু উশৃঙ্খল জনতার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন