যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় চুক্তিতে পৌঁছতে ইরান যে কোনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মজিদ তখত-রাভানচি।
বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় দুই দেশের নতুন করে আরেক দফা বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যে ইরান একথা জানাল।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
দুই দেশ এ মাসের শুরুতে আলোচনা নতুন করে শুরু করেছিল। ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিবৃদ্ধি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই আলোচনা শুরু হয়।
ইরান আক্রান্ত হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকের আগে দিয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মজিদ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এক মন্তব্যে বলেছেন, "আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি চুক্তিতে পৌঁছার জন্য প্রস্তুত। এটি করতে যা কিছু করা দরকার আমরা করব।"
"আমরা পুরোপুরি সততা এবং সরল বিশ্বাস নিয়ে জেনিভায় আলোচনা কক্ষে প্রবেশ করব।"
ইরানের এর বক্তব্যের আগে মঙ্গলবারেই ইরানকে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট।
হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্টে ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ সবসময়ই কূটনীতি। কিন্তু তিনি যেমনটি দেখিয়েছেন...প্রয়োজন পড়লে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করতেও ইচ্ছুক। এ বিষয়ে সবসময় প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।"
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত নতুন নয়। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে সেই সংঘাত অনেকটাই বেড়েছে। প্রায়ই দু'পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে চলছে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনাও।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দু'দফা বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও মীমাংসা হয়নি। ট্রাম্প প্রায়ই ইরানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। ইরানকে ১০ দিন সময় বেঁধে দিয়ে বোঝাপড়ায় আসার কথা বলেছেন তিনি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন