নেপালের সাধারণ নির্বাচনে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোকে পেছনে ফেলে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখিয়েছে নতুন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দেশটির ভোটাররা পুরনো প্রতিষ্ঠিত দল ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারিয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকছেন। বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া গণ-আন্দোলনের পর এই নির্বাচন নেপালের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নেপালের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আরএসপি ইতোমধ্যে ৩৬টি আসনে জয় পেয়েছে এবং আরও ৮৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। খবর প্রকাশ করেছে কাঠমান্ডু পোস্ট।
২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত মধ্যপন্থি দল আরএসপি স্বচ্ছতা, ডিজিটাল আধুনিকায়ন এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পার্লামেন্টের ১৬৫টি সরাসরি আসনের মধ্যে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে দলটি।
অন্যদিকে গত নির্বাচনের বড় বিজয়ী নেপালি কংগ্রেস এখন পর্যন্ত সরাসরি ভোটের ১৬৫টি আসনের মধ্যে মাত্র ৬টিতে জয় পেয়েছে এবং ৯টিতে এগিয়ে রয়েছে। সিপিএন–ইউএমএল জয় পেয়েছে ২টি আসনে এবং ৯টিতে এগিয়ে আছে। নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি জিতেছে ২টি আসনে এবং ৮টিতে এগিয়ে রয়েছে। অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মিলে এখন পর্যন্ত একটি আসনে জয় পেয়েছেন এবং ছয়টি আসনে এগিয়ে আছেন।
২৭৫ সদস্যের পার্লামেন্টে এই ধারা অব্যাহত থাকলে আরএসপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশ নেপালে এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৯ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বলেন্দ্র শাহ
নেপালের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে গত সেপ্টেম্বরের ছাত্র ও যুব আন্দোলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন পরে দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ওই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারান।
এই আন্দোলনের প্রভাবেই এবার প্রধানমন্ত্রী পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ৩৫ বছর বয়সী সাবেক র্যাপার বলেন্দ্র শাহ। নিজের নির্বাচনী এলাকা ঝাপা–৫ আসনে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ৭৪ বছর বয়সী কেপি শর্মা অলির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, তিনি অলির চেয়ে প্রায় ৪০ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল পুরনো নেতৃত্বের প্রতি জনগণের তীব্র অসন্তোষ এবং নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।
এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি এই নির্বাচনকে নেপালের ‘ভবিষ্যৎ নির্ধারণী’ বলে উল্লেখ করেছেন।
দেশজুড়ে চলমান সমানুপাতিক (পিআর) ভোট গণনায়ও বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে আরএসপি। এখন পর্যন্ত গণনা করা ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫১৪টি ভোটের মধ্যে আরএসপি পেয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭১৫ ভোট, যা মোট ভোটের প্রায় ৫৪.৮ শতাংশ।
অন্যদিকে নেপালি কংগ্রেস পেয়েছে ৩১ হাজার ১৭১ ভোট (১৬.৫ শতাংশ), সিপিএন–ইউএমএল পেয়েছে ২২ হাজার ২১৬ ভোট (১১.৭ শতাংশ) এবং রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি পেয়েছে ৯ হাজার ৪৭৭ ভোট (৫ শতাংশ)। এছাড়া নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি পেয়েছে ৭ হাজার ৬২৭ ভোট (৪ শতাংশ) এবং শ্রম সংস্কৃতি পার্টি পেয়েছে ৫ হাজার ৭৪৭ ভোট (৩ শতাংশ)।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন