সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ রাষ্ট্রের সব স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
রোববার ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস–২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে কাজ করবে।’
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সকল নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার - সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্বে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে ঘরে-বাইরে সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল অর্জন করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। শহীদ জিয়ার শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে ‘নারী বিষয়ক দপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯৭৮ সালে গঠন করা হয় ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯৪ সালে এটি ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ রূপান্তরিত হয়।
নারীর আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার শাসনামলে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা হয়েছিল, যা নারীর ক্ষমতায়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সরকার স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার বুলিং ও অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠা, মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীদের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাণীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন