ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়ে অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। রোববার দেওয়া এক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে মঙ্গলবার রাতের মধ্যে প্রণালি খুলে দিতে বলেন, অন্যথায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় বড় হামলার হুমকি দেন।
এই মন্তব্যের পর ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, সিনেটর ক্রিস মারফি এবং ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেলর গ্রিনসহ একাধিক মার্কিন রাজনীতিক প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ ট্রাম্পের বক্তব্যকে বিপজ্জনক, ভারসাম্যহীন ও উসকানিমূলক বলে উল্লেখ করেছেন।
বার্নি স্যান্ডার্স ট্রাম্পের বক্তব্যকে “বিপজ্জনক ও মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন” বলে বর্ণনা করে কংগ্রেসকে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। একই প্রেক্ষাপটে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের বিষয়েও আলোচনা সামনে আসে, যদিও সেটি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবসম্মত নয় বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালি, যা বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামও চাপে রয়েছে। ইরানও জানিয়েছে, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি পুনরায় চালুর প্রশ্নে তাদের অবস্থান কঠোর থাকবে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে এ সংকট আরও বিস্তৃত হয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন