কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জের নালজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে, নেত্রকোণার বাউলাই নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে, ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জাইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোণা ও আটপাড়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এ ছাড়া হবিগঞ্জের কালনি-কুশিয়ারা নদী আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে এবং সুতাং নদী সুতাং রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি বাড়ছে। তবে ভুগাই-কংস নদীর পানি কিছুটা কমেছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজান ও হাওর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ৫ মে পর্যন্ত মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি এবং ৬ ও ৭ মে মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।এই বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। দ্বিতীয় দিনে কুশিয়ারা নদীর পানি কোথাও কোথাও প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে নেত্রকোণার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে এসব নদী অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জের ধনু-বাউলাই নদীর পানিও আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। ফলে এই অববাহিকার নিম্নাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং তৃতীয় দিনে বাড়তে পারে। জুড়ি নদীর পানি আগামী ৭২ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।
এ ছাড়া সুতাং নদীর পানি আগামী এক দিন বাড়তে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন কমতে পারে। তবে নদীটি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় হবিগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি আপাতত অব্যাহত থাকতে পারে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন