হামের প্রাদুর্ভাব রোধে টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে রাজনীতিবিদদের ঘরে ঘরে গিয়ে টিকা সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
রোববার সকালে রাজধানীর কড়াইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, জরুরি এই ক্যাম্পেইন সফল করতে হলে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় সাংগঠনিক শক্তি কাজে লাগিয়ে টিকাদান কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি রাজনীতিবিদদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তারা যেন ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে জানায়।
তিনি বলেন, ৫৯ মাস বয়স পর্যন্ত সব শিশুকে অবশ্যই টিকার আওতায় আনতে হবে। শুধু নিজের সন্তানকে টিকা দিলেই হাম প্রতিরোধ সম্ভব নয়; বরং সমাজে সম্মিলিত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অন্তত প্রতি ১০০ জনে ৯৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে, যাতে কয়েকজন বাদ পড়লেও সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকে।
তিনি জানান, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছে। সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, এখন থেকেই শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া গেলে রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ কার্যক্রমে মন্ত্রণালয় থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
এ সময় ঢাকা উত্তরে হামের চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার অনুরোধ জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনেও হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে এই কার্যক্রম চালু হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রায় ৫ লাখ শিশু এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। সেখানে ৫৪টি স্থায়ী ও ৫০২টি অস্থায়ী কেন্দ্র রাখা হয়েছে। কর্মজীবী অভিভাবকদের সুবিধার্থে ৩৫টি সান্ধ্যকালীন কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৬৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। দুই সিটিতে মোট প্রায় ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৭ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান চলবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন