যশোরের শার্শায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জায়গা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের পাঁচটি পুরোনো মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেহরাব ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দুপুরে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বাগআঁচড়া পাঁচপুকুর এলাকায় গাছ কাটার ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা বাধা দেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভিন্ন বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মহাসড়কের পাশে সওজের মালিকানাধীন জমিতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে গাছগুলো ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে মেহরাব ট্রেডার্সের কর্মীরা সেগুলো কাটতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, সরকারি অনুমতি নিয়েই গাছ কাটা হচ্ছে এবং ওই সড়কের মোট ৪২টি গাছ কাটার অনুমোদন রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট স্থানে ৪২টি গাছের অস্তিত্ব নেই। সড়কের পাশের পুরোনো গাছ কেটে ফেললে ভবিষ্যতে সড়ক ভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ বলেন, “দীর্ঘ ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে দেখে আসছি, মেহগনি গাছগুলো জেলা পরিষদের লাগানো। কিন্তু হঠাৎ করে এগুলো বন বিভাগের গাছ হয়ে গেল কীভাবে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
আরেক বাসিন্দা সাইদুর অভিযোগ করেন, বন বিভাগের অনুমোদনপত্র দেখিয়ে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সওজের মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মেহরাব ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বলেন, “২০২৪ সালে দরপত্র হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে কাজ বন্ধ ছিল। এখন নতুন করে গাছ কাটা শুরু হয়েছে। তালিকার বাইরের কোনো গাছ কাটা হচ্ছে না।”
শার্শা উপজেলা সামাজিক বনায়ন কেন্দ্রের ইনচার্জ ইউনুচ আলী বলেন, “আমরা ওই গাছ কাটিনি। আপনাদের কাছে যে তথ্য গেছে, তা সঠিক নয়।”
অন্যদিকে যশোর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার আশরাফুজ্জামান মঞ্জু বলেন, “২০২৪ সালে গাছের দরপত্র হওয়ার পর আমরা গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। নতুন করে গাছ কাটার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়। সত্যতা পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। তবে বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি আর না বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”
মহাসড়কের পাশের সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অনুমোদনের বাইরে কোনো গাছ কাটা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন