চট্টগ্রামে অস্ত্র-গুলিসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাঁর নাম ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম (২৮)। র্যাব বলছে, তিনি একসময় বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী ছিলেন। তাঁর হয়ে চাঁদাবাজি করতেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরে বায়েজিদ বোস্তামী লিংক রোড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এ সময় আবুল কালাম আজাদ নামের তাঁর এক সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, একসময় বড় সাজ্জাদের সহযোগী হলেও এখন তাঁর সঙ্গে বিরোধ চলছে ইকরামের।
ইকরামের পরিবারের দাবি, তিনি একজন ব্যবসায়ী। সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে ধরিয়ে দিতে পুলিশকে সহায়তা করায় তাঁকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে ইমতিয়াজ অস্ত্র কেনাবেচার জন্য লিংক রোড এলাকায় অবস্থান করছেন।
তখন র্যাব অভিযান চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আরেকটি পিস্তল ও ৫৬টি গুলি উদ্ধার করে র্যাব। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, গত বছরের নভেম্বরে নির্বাচনী গণসংযোগে গুলিতে মারা যাওয়া সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা ও সন্ত্রাসী মো. ফিরোজের সঙ্গে চাঁদাবাজি করতেন। ইমতিয়াজ দুবাইতে ছিলেন।
সেখানে বসে বড় সাজ্জাদের নির্দেশমতো তাঁরা চাঁদাবাজি করতেন। ইমতিয়াজ ভারত হয়ে দুবাইতে যান, পরে দেশে ফিরে আসেন। ইমতিয়াজ চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পর তিনি পালিয়ে ভারত হয়ে দুবাই চলে যান। সেখানে গিয়ে সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলার সঙ্গে সখ্য হয়।
র্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, অক্সিজেন, মুরাদপুর এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশি নম্বর থেকে কল দিয়ে চাঁদা আদায় করতেন ইকরাম।
এ ছাড়া সন্ত্রাসী ইমতিয়াজ সুলতান একসময় 'রিচ কিডস' নামের একটি আলোচিত কিশোর গ্যাং গ্রুপ পরিচালনা করতেন।
বিভিন্ন সময়ে নিজের পরিচয় গোপন করে প্রায় সময় দেশে আসা-যাওয়া করতেন। গ্রেপ্তার আসামি আবুল কামাল আজাদ সন্ত্রাসী ইমতিয়াজের অপরাধ জগতের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক। তিনি চাঁদার টাকা উত্তোলন করতেন।
র্যাব জানায়, ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিন হত্যা মামলা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও নাশকতার পাঁচটি মামলা রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন