নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপোতে নেওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে পদ্মা অয়েল পিএলসির একটি দল।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে পদ্মা অয়েলের তিন সদস্যের তদন্তদল কুর্মিটোলা ডিপোতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা এবং তেলবাহী গাড়িগুলোর চলাচলসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু করে। তদন্তদলে রয়েছেন পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স মো. শফিউল আজম এসিএ, ব্যবস্থাপক (পরিচালন) পেয়ার আহাম্মদ এবং কর্মকর্তা (ইঞ্জি.) কে এম আবদুর রহিম।
এর আগে ১৩ মার্চ জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পদ্মা অয়েলের এই টিম মাঠে নামে। তদন্তকারীরা ডিপোর বিভিন্ন স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার পাশাপাশি তেলবাহী গাড়ির গতিপথ নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিসিটিভি ফুটেজও যাচাই করছেন। একই সঙ্গে ডিপোতে থাকা তেলের পরিমাণ মেপে দেখা হচ্ছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গোদনাইল ডিপো থেকে ছেড়ে আসা জেট ফুয়েলবাহী গাড়িগুলোর প্রকৃত গতিপথ ও কুর্মিটোলা ডিপোতে প্রবেশসংক্রান্ত তথ্যের ওপর। কাগজে-কলমে গাড়িগুলো ডিপোতে পৌঁছেছে দেখানো হলেও বাস্তবে সেগুলো পৌঁছেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) মো. শফিউল আজম বলেন, সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল থেকেই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তা এখনো চলমান। সব দিক যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জেট ফুয়েল সাধারণত বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে তুলনামূলক কম দামের কারণে এটি অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার গোদনাইল পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে জেট ফুয়েল নিয়ে ছেড়ে যাওয়া অন্তত চারটি গাড়ি ৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ ও ৪১-০৬৯৮ কাগজে-কলমে কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছেছে দেখানো হলেও বাস্তবে সেগুলোর জ্বালানি অন্যত্র পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক (এভিয়েশন) মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বে একটি পুরোনো সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও তেল চুরির অভিযোগ উঠেছিল। গত বছরের ২০ জানুয়ারি পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ তাকে সতর্ক করে চিঠি দেয় বলেও জানা গেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা ডিপো থেকে ধারাবাহিকভাবে তেল চুরির অভিযোগ তদন্তে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে তারা তা দিতে পারেনি। পরে গত ৮ মার্চ তদন্তের অংশ হিসেবে কুর্মিটোলা ডিপো পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন