দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে তাৎক্ষণিক মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, তরুণরা অনেকটা ‘ইনস্ট্যান্ট কফির’ মতো হয়ে যাচ্ছে; তারা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে চায় না, বুঝতেও চায় না।
রোববার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং উদ্ভাবকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের ২৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী তরুণ। কিন্তু তাদের মধ্যে ইনস্ট্যান্ট কমেন্ট ও ইনস্ট্যান্ট রিয়েকশনের প্রবণতা বাড়ছে। তারা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে চায় না। বোঝার সক্ষমতাও অনেক ক্ষেত্রে হারিয়ে ফেলছে।
এ অবস্থায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও অগ্রগতি কীভাবে সম্ভব-এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এমনকি অনেক সময় ইউনিফর্ম পরেও শিক্ষক ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অশোভন মন্তব্য করতে দেরি করছে না।
এহছানুল হক মিলন বলেন, তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতার জায়গা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা ভাবার সময় এসেছে। অনেকেই ফেসবুক লাইভে এসে অপ্রাসঙ্গিক ও অযাচিত মন্তব্য করছেন। এতে উদ্দেশ্যহীনভাবে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।
তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইউজিসির এই আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেধাস্বত্ব বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের অনেক উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্ব অন্য দেশে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও ট্রেডমার্ক পাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণে দেশে তা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না।
মেধাস্বত্ব দেশে ফিরিয়ে আনতে ‘রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন’ জরুরি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিদেশে পড়তে যাওয়া অনেকেই দেশে ফিরছেন। তবে কত মেধা হারাচ্ছি, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এ বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আরও উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বড় বাজেট থাকলেও গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকে না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গবেষণা খাতে বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
কর্মশালায় এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, গুজবের কারণে শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। এ ধরনের গুজবে সরকার বিব্রত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন