পাবনার সাঁথিয়ায় অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাঁথিয়া পৌরসভার ইছামতি নদীর ডাইকের পাশে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টা থেকে পবিত্র ঈদুল আজহার আগের রাত ১২টা পর্যন্ত ওই এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া পৌরসভার সাঁথিয়া বাজারসংলগ্ন ইছামতি নদীর তীরে ডাইকের পাশে পরিত্যক্ত জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে পাবনা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসকের অনুমতির পর পৌর প্রশাসকের পক্ষ থেকে গত ১৯ মে উপজেলা পরিষদ হলরুমে হাট ইজারার নিলামের আয়োজন করা হয়।
ইজারার শর্ত অনুযায়ী নিলামে অংশ নিতে আসা ২৬ জন ব্যক্তি প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা করে পৌর প্রশাসকের কাছে জমা দেন। তবে নিলাম চলাকালে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করেন।
পরে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় উভয় পক্ষকে নিয়ে আবারও অস্থায়ী পশুর হাটের নিলাম ডাকার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। এ সময় নিলামে অংশ নিতে আসা বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ হলরুম থেকে বের হয়ে যান। পরে থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ বিষয়ে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের প্রতিনিধি ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, অস্থায়ী পশুর হাট নিয়ে ২১ মে উন্মুক্ত নিলাম ডাকা হয়েছিল। তার অভিযোগ, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের যোগসাজশে সাঁথিয়া অস্থায়ী পশুর হাট বন্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, পৌরসভার রাজস্ব উন্নয়নের স্বার্থে এবং পৌর প্রশাসকের আহ্বানে তারা নিলামে অংশ নিতে যান। তার অভিযোগ, এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং টেবিল চাপড়িয়ে হুমকি দিয়ে মব সৃষ্টি করেন। এ কারণে তারা নিলামে অংশ না নিয়ে চলে আসেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না জানান, সাঁথিয়া পৌরসভার ইছামতি নদীর ডাইকের পাশে অস্থায়ী পশুর হাট হিসেবে এখনো কোনো পক্ষকে ইজারা দেওয়া হয়নি। হাট ইজারা প্রত্যাশী পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা থাকায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
তিনি জানান, ১৪৪ ধারা চলাকালে ওই এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন বা প্রদর্শন, লাঠি বা দেশীয় অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন, মাইকিং বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার, পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির একসঙ্গে চলাফেরা, সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ থাকবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন