নোয়াখালী সদর উপজেলায় ছাত্রদলের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের আরও ২৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেন।
তিনি জানান, শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এসপি মোশাররফ হোসেন বলেন, উপজেলার নোয়ান্নই ও কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ওসি তৌহিদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ।
একই আদেশে ফেনীর সোনাগাজী থানার ওসি মো. কামরুল ইসলামকে সুধারাম মডেল থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সুধারাম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম ভট্টাচার্যকে হাতিয়া থানার ওসি এবং হাতিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমানকে সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গত দুই দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৪৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে ছাত্রদলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয়সহ উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেলের নেতৃত্বে একই এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।
কর্মসূচি শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়ির পাশের একটি দোকানের সামনে পৌঁছালে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলা হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। ওই ঘোষণা শুনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন