পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে একটি রাজনৈতিক সমাবেশের আগে পুলিশ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পুলিশ সদস্য ও সাধারণ নাগরিকসহ বহু মানুষ।
সোমবার (৮ জুন) সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়। রাজনৈতিক অধিকার আদায় ও আইনসভায় প্রতিনিধিত্বের দাবিতে মঙ্গলবার পূর্বনির্ধারিত একটি গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গত রোববার থেকে এ সহিংসতা শুরু হয়।
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক রায়ে জানায়, পাকিস্তানে বসবাসরত কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আইনসভার ১২টি আসন সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত। ফলে সংবিধান সংশোধন ছাড়া এসব আসন বাতিল করা সম্ভব নয়।
আদালতের এ রায়ের পরই বিরোধ তীব্র হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠী জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত এসব আসন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটির দাবি, এসব আসনের মাধ্যমে শরণার্থীরা স্থানীয় রাজনীতিতে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করছে।
আঞ্চলিক প্রশাসনের পুঞ্চ সেক্টরের কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান রয়টার্সকে জানান, দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে চার পুলিশ সদস্য ও এক পথচারী নিহত হয়েছেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাল্টা ব্যবস্থায় ছয় বিক্ষোভকারী নিহত হন বলে জানান তিনি।
আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান লিয়াকত মালিক জানান, সহিংসতায় ২৩ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ৫০ জন প্রতিবাদকারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, রাওয়ালকোট শহরে সশস্ত্র বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায় এবং পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল বা সিএমএইচ অবরোধ করে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ আরও অভিযোগ করেছে, আন্দোলনকারীরা সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তবে জেএএসি নেতা শওকত নওয়াজ মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এ ঘটনাকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চালানো ‘গণহত্যা’ বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত ৯ জুনের সমাবেশে সবাইকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় সরকার গত শুক্রবার বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। একই সঙ্গে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মঙ্গলবারের আগেই কাশ্মীর ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পুঞ্চ সেক্টরের পুলিশ কমিশনার গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, রাষ্ট্র কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছিল, আর আন্দোলনকারীরা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও পেট্রলবোমা নিয়ে হামলা চালায়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন