নিজের জীবনের একটি কঠিন অধ্যায় নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী পরীমনি। তিনি দাবি করেছেন, ২০২১ সালে বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ওই ঘটনার কারণে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ১২টা ২০ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন তিনি।
স্ট্যাটাসে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান পরীমনি। তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে খাইরুল ইসলামের বক্তব্যের মাধ্যমে বনানীর বাসায় অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে দেশবাসী নতুন তথ্য জানতে পেরেছে।
নিজের জীবনের ওই সময়কে অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে পরীমনি লেখেন, ওই ঘটনার কারণে একজন শিল্পী, নারী ও মানুষ হিসেবে তিনি গভীরভাবে আঘাত পেয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ২৮ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। তার ভাষ্য, ওই সময়ের অভিজ্ঞতা তার জীবনকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
পরীমনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি এখনো ওই ঘটনার প্রভাব বয়ে বেড়াচ্ছেন। তাকে যেভাবে অপদস্থ করা হয়েছে এবং তার সম্মান ও চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সেটি একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রের উদ্দেশে কয়েকটি প্রশ্ন তুলে পরীমনি জানতে চান, হারিয়ে যাওয়া সময়, সম্মান ও মানসিক শান্তি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না। মানুষের মধ্যে তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া ভুল ধারণার দায় রাষ্ট্র নেবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে প্রতিশোধ নয়, সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই তার প্রত্যাশা বলে উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো নির্দোষ মানুষ এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার না হন।
স্ট্যাটাসের শেষ অংশে কঠিন সময়ে পাশে থাকা পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী, সাংবাদিক ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান পরীমনি। তিনি বলেন, অতীতের ক্ষত নিয়ে না থেকে কাজ, সন্তান, পরিবার ও দর্শকদের ভালোবাসা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান।
২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। মামলায় বাসা থেকে বিদেশি মদ, চার গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ) এবং একটি এলএসডি ব্লট উদ্ধারের অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ বিচারাধীন।
অন্যদিকে একই ঘটনার পর ২০২২ সালের ১৮ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলাতেও অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন